কো’লে’স্টের’ল কমাতে চি’য়ার চেয়েও এগিয়ে যে বীজ

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই অনেকেই খাবারের মাধ্যমে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তুলসী বীজ বা সবজা বীজ। নিয়মিত এই বীজ খেলে কোলেস্টেরল কমতে পারে—এমন দাবি ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও।

ছোট কালো এই বীজ পানিতে ভিজলে ফুলে গিয়ে জেলির মতো আকার ধারণ করে। এতে রয়েছে ডায়েটারি ফাইবার, উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, আয়রন, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, পলিফেনল, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালশিয়ামের মতো বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। এ কারণে চিয়া বীজের পাশাপাশি তুলসী বীজও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

মধুমেহ রোগের চিকিৎসক আশিস মিত্রের মতে, তুলসী বীজে থাকা দ্রবণীয় ডায়েটারি ফাইবার পানিতে ভিজে জেলির মতো হয়ে যায়। এই ফাইবার পরিপাকতন্ত্রে কোলেস্টেরল শোষণের প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি পিত্তথলি থেকে নিঃসৃত অ্যাসিড শরীর থেকে বের করে দিতেও এটি সহায়তা করতে পারে। ফলে খাবার থেকে শরীরে কোলেস্টেরল শোষণের পরিমাণ কমাতে তুলসী বীজ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে শুধু তুলসী বীজ খেলেই শরীরে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমবে—এমনটা মনে করার কারণ নেই বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসক। তাঁর মতে, চিয়া বীজ বা ইসবগুলেও প্রচুর ফাইবার থাকে এবং এগুলো খাবার থেকে কোলেস্টেরল শোষণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু লিভারে তৈরি হওয়া কোলেস্টেরলের ওপর এসব বীজের সরাসরি প্রভাব সীমিত।

তাই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে শুধু কোনো একটি ‘সুপারফুড’-এর ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধও গ্রহণ করতে হতে পারে।

তুলসী বীজ খাওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ হলো, বীজগুলো পানিতে ভিজিয়ে টক দই বা ইয়োগার্টের সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে। একইভাবে ঈষদুষ্ণ পানিতে ইসবগুল ভিজিয়েও খাওয়া যায়। তবে যাদের কোলেস্টেরল বেশি, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যতালিকায় এসব উপাদান যুক্ত করাই নিরাপদ।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *