দিনভর কর্মব্যস্ততার পর রাতে ভালো ঘুম শরীর ও মনের ক্লান্তি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু অনেকেই মাঝরাতে বা ভোরের দিকে হঠাৎ গলা শুকিয়ে যাওয়ার কারণে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন। দু একদিন এমন হওয়া স্বাভাবিক হলেও, যদি এটি নিয়মিত ঘটে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
গরম আবহাওয়া, সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান না করা বা এসি চালিয়ে ঘুমানোর কারণে সাময়িকভাবে গলা শুকিয়ে যেতে পারে। তবে, প্রতিদিন একই সমস্যা হলে এটি কোনো শারিরীক সমস্যার পূর্বাভাসও হতে পারে।
কেন রাতে গলা শুকিয়ে যায়?
মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া ও নাক ডাকা
অনেকেই ঘুমের সময় অজান্তেই মুখ দিয়ে শ্বাস নেন। নাকের হাড় বাঁকা হওয়া, সাইনাসের সমস্যা বা অ্যালার্জির কারণে নাক বন্ধ থাকলেও এমন হতে পারে। মুখ খোলা রেখে ঘুমালে মুখের আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায় এবং গলা শুকিয়ে যায়।
ঘুমের ভেতর গলা শুকিয়ে যাওয়ার ঘটনা বারবার ঘটলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ছবি : প্রতীকী
স্লিপ অ্যাপনিয়া
অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া একটি গুরুতর ঘুমজনিত সমস্যা। এতে ঘুমের সময় শ্বাসনালী আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে রোগী জোরে নাক ডাকেন, হাঁসফাঁস করেন বা হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়। এই অবস্থায় মুখ দিয়ে বেশি শ্বাস নেওয়ার কারণে গলা শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীর অতিরিক্ত চিনি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা করে। এতে ঘন ঘন প্রস্রাব হয় এবং শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। তাই রাতে বারবার তৃষ্ণা পাওয়া ও গলা শুকিয়ে যাওয়া ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর একটি হতে পারে।
পানিশূন্যতা
দিনে পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরে পানির অভাব তৈরি হয়। অতিরিক্ত গরম, ঘাম বা শারীরিক পরিশ্রমের কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। তখন লালাগ্রন্থি পর্যাপ্ত লালা তৈরি করতে পারে না, ফলে রাতে গলা শুকিয়ে যায়।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
উচ্চ রক্তচাপ, অ্যালার্জি, উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা অন্য কিছু রোগের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে মুখ ও গলা শুকিয়ে যেতে পারে। নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে চিকিৎসকের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা উচিত।
এসিড রিফ্লাক্স
রাতে অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়লে পাকস্থলীর এসিড খাদ্যনালী ও গলায় উঠে আসতে পারে। এতে গলায় জ্বালাপোড়া, অস্বস্তি এবং গলা শুকিয়ে যাওয়ার অনুভূতি দেখা দেয়।

Leave a Reply