স্মার্টফোনে এখন অসংখ্য ফিচার রয়েছে, তবে সব ফিচার সবসময় চালু রাখার প্রয়োজন হয় না। অনেক সময় এমন কিছু সেটিংস অকারণে সারাক্ষণ চালু থাকে, যার ফলে ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যায়। আপনি যদি লক্ষ্য করেন যে ফোন আগের তুলনায় কম ব্যাটারি ব্যাকআপ দিচ্ছে, তাহলে নিচের ৫টি সেটিংস পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।
ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ সবসময় চালু রাখবেন না
ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ ব্যবহার না করলেও যদি এগুলি চালু থাকে, তাহলে ফোন আশপাশের নেটওয়ার্ক ও ডিভাইস খুঁজতে থাকে। এই ব্যাকগ্রাউন্ড স্ক্যানিংয়ের কারণে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যাটারি খরচ হয়। তাই প্রয়োজন শেষ হলে ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ বন্ধ করে দিন।
কুইক শেয়ার বন্ধ রাখুন
স্যামসাংয়ের কুইক শেয়ার ফিচার বড় ফাইল দ্রুত শেয়ার করতে সাহায্য করে। তবে এটি চালু থাকলে ফোন সবসময় আশপাশের ডিভাইস খুঁজতে থাকে এবং ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ ব্যবহার করে। ফলে ব্যাটারি দ্রুত কমতে পারে। ব্যবহার না করলে কুইক শেয়ার সেটিংস থেকে কাওকে ফাইল শেয়ার করার অপশনটি বন্ধ রাখুন।
হ্যাপটিক ফিডব্যাক বা ভাইব্রেশন কমিয়ে দিন
কীবোর্ডে টাইপ করা, নম্বর ডায়াল করা বা বিভিন্ন কাজে ফোনে যে ছোট ছোট কম্পন অনুভূত হয়, তাকে হ্যাপটিক ফিডব্যাক বলা হয়। প্রতিবার ভাইব্রেশনের জন্য মোটর কাজ করে, যা দীর্ঘ সময়ে ব্যাটারির উপর প্রভাব ফেলে। তাই প্রয়োজন না হলে এই ফিচারটি বন্ধ রাখুন।
ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ রিফ্রেশ সীমিত করুন
অনেক অ্যাপ ব্যবহার না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে ডেটা সিঙ্ক ও আপডেট করতে থাকে। এতে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়। তাই যে অ্যাপগুলির ব্যাকগ্রাউন্ডে চলার প্রয়োজন নেই, সেগুলির ব্যাটারি সেটিংসে গিয়ে রেস্ট্রিক্টেড নির্বাচন করুন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা ইউজেস বন্ধ করুন।
লোকেশন সবসময় চালু রাখবেন না
ডিসপ্লের পর ফোনের সবচেয়ে বেশি ব্যাটারি খরচ করে জিপিএস বা লোকেশন সার্ভিসেস। অনেক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনার অবস্থান ব্যবহার করে। তাই প্রয়োজন না থাকলে লোকেশন বন্ধ রাখুন এবং শুধুমাত্র নেভিগেশন বা লোকেশন-নির্ভর কাজের সময় এটি চালু করুন।
এই কয়েকটি সহজ পরিবর্তন করলে ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ রাখা, স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমানো এবং পাওয়ার সেভিং মোড ব্যবহার করলেও ব্যাটারির আয়ু আরও বাড়ানো সম্ভব।

Leave a Reply