বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর সেনেগাল জাতীয় দলে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দলের তারকা মিডফিল্ডার পাপে গুইয়ে জাতীয় দল থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি প্রধান কোচ পাপে থিয়াওয়ের সঙ্গে দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
লা লিগার ক্লাব ভিয়ারিয়ালের ২৭ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বর্তমান কোচিং স্টাফ দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত তিনি জাতীয় দলে খেলবেন না।
গতরাতে (১ জুলাই) রাউন্ড অব ৩২–এর ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে সেনেগাল। ম্যাচে হাবিব দিয়ারা ও ইসমাইলা সারের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল আফ্রিকার দলটি। কিন্তু শেষ দিকে মাত্র আড়াই মিনিটের ব্যবধানে রোমেলু লুকাকু ও ইউরি টিলেমান্স গোল করে সমতা ফেরান। পরে অতিরিক্ত সময়ের ১২৫তম মিনিটে ভিএআরের সহায়তায় পাওয়া পেনাল্টি থেকে টিলেমান্স জয়সূচক গোল করে বেলজিয়াকে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেন।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে গুইয়ে লেখেন, ‘বিদায় নিয়ে পরে বিস্তারিত বলব। তবে আজই জানিয়ে রাখছি, যত দিন এই কোচিং স্টাফ দায়িত্বে থাকবে, তত দিন আমি জাতীয় দল থেকে বিরতি নেব।’
ম্যাচে সেনেগাল ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সময় দ্বিতীয়ার্ধের এক ঘণ্টা পার হওয়ার পর গুইয়েকে তুলে নিয়ে লামিন কামারাকে নামান কোচ থিয়াও।
এরপর ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে নাটকীয়ভাবে বদলে যায় দৃশ্যপট। লুকাকু ব্যবধান কমানোর পর লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের ক্রস থেকে হেডে গোল করে টিলেমান্স সমতা আনেন। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে ভিএআরের সিদ্ধান্তে পাওয়া পেনাল্টি থেকে আবারও গোল করে বেলজিয়াকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন তিনি।
ম্যাচ শেষে হতাশ থিয়াও বলেন, ‘আমরা এমন একটি ম্যাচ হেরেছি, যা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা সেনেগালের মানুষের জন্য পরের রাউন্ডে উঠতে চেয়েছিলাম। আমাদের বিশ্বাস ছিল আমরা সেটির যোগ্য ছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা বিদায় নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি খুবই দুঃখিত। খেলোয়াড়রাও ভীষণ হতাশ, কারণ তারা সত্যিই পরের রাউন্ডে যেতে চেয়েছিল।’
গুইয়ে, যিনি এর আগে ইরাকের বিপক্ষে ৫-০ জয়ের ম্যাচে দুটি গোল করেছিলেন, তাকেও দ্বিতীয়ার্ধে বদলি করা হয়। এছাড়া ইলিমান এনদিয়ায়ে, হাবিব দিয়ারা, অতিরিক্ত সময়ে সাদিও মানে ও ইদ্রিসা গানা গুইয়েকেও মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়।
এই বদলিগুলো নিয়ে থিয়াও ব্যাখ্যা দেন, ‘ওরা ক্লান্ত ছিল এবং আর খেলতে পারছিল না। এমন অবস্থায় তাদের মাঠে রেখে দেওয়া অপেশাদারিত্ব হতো। তাই আমরা একই পজিশনের খেলোয়াড় দিয়ে বদলি করেছি।’

Leave a Reply