পবিত্র রমজান মাসে অনেকেই সেহরি খেয়ে সরাসরি ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের স্বল্প ঘুম, ফজরের নামাজ ও দিনের ব্যস্ততার কারণে এটি অনেকের জন্য প্রয়োজনীয়ও হয়ে পড়ে।
তবে সেহরির পর ঘুম এবং ঘুম থেকে ওঠার পর কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনুসরণ না করলে হজমের সমস্যা, অবসাদ, মাথাব্যথা কিংবা পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট কিছু নিয়ম মানলেই সারা দিন সতেজ থাকা সম্ভব।
কেন সতর্ক থাকা জরুরি
সেহরিতে সাধারণত ভাত, রুটি, ডাল, মাংস, ডিম কিংবা দুধজাত খাবার খাওয়া হয়। খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে হজম ধীর হতে পারে এবং অনেকের ক্ষেত্রে অ্যাসিডিটি বা বুকজ্বালাপোড়া দেখা দেয়।
আবার দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে শরীরে পানির ঘাটতিও তৈরি হতে পারে। তাই ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরকে ধীরে ধীরে সক্রিয় করা গুরুত্বপূর্ণ।
ঘুম থেকে উঠে যা করবেন
১. ধীরে উঠুন, হঠাৎ নয়
হঠাৎ করে বিছানা ছাড়লে মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগতে পারে। কয়েক মিনিট বসে থেকে শরীরকে স্বাভাবিক হতে দিন।
২. হালকা স্ট্রেচিং করুন
হাত-পা ও ঘাড়ের হালকা ব্যায়াম রক্তসঞ্চালন বাড়ায় এবং ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। ৫–৭ মিনিটের স্ট্রেচিংই যথেষ্ট।
৩. মুখ-হাত ধুয়ে সতেজ হন
ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুলে ঘুমঘোর কাটে। এতে মনোযোগও বাড়ে।
৪. পানিশূন্যতার লক্ষণ খেয়াল করুন
রমজানে দিনের বেলায় পানি পান করা যায় না। তাই মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা গা শুকিয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে ইফতার ও সেহরিতে পর্যাপ্ত পানি পানের পরিকল্পনা করুন।
৫. ভারী কাজ এড়িয়ে চলুন
ঘুম থেকে উঠেই কঠিন শারীরিক পরিশ্রম না করাই ভালো। প্রথমে হালকা কাজ দিয়ে শুরু করুন।
৬. সুষম খাদ্য পরিকল্পনা করুন
যদি নিয়মিত সেহরির পর ঘুমান, তবে সেহরিতে অতিরিক্ত তেল-ঝাল খাবার এড়িয়ে চলুন। আঁশযুক্ত খাবার, প্রোটিন ও পর্যাপ্ত পানি শরীরকে দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাতে সহায়তা করে।
বিশেষ সতর্কতা
যাদের গ্যাস্ট্রিক, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সেহরি-পরবর্তী ঘুমের অভ্যাস নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। প্রয়োজনে খাবারের ধরন ও পরিমাণে পরিবর্তন আনা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রমজানে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মূল চাবিকাঠি হলো নিয়মিত ঘুম, সুষম খাদ্য ও পরিমিত শারীরিক সক্রিয়তা। সেহরি খেয়ে ঘুমালে ক্ষতি নেই—তবে ঘুম থেকে উঠে সচেতনভাবে দিন শুরু করাই হতে পারে সুস্থ থাকার সহজ উপায়।

Leave a Reply