রোজায় যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আবারও দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র রমজান মাস। বাংলাদেশের আকাশে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজানের নতুন চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সিয়াম সাধনা বা রোজা রাখা শুরু করবেন। 

এ সময় আবহাওয়া কিছুটা পরিবর্তিত—না শীত, না গরম। তাপমাত্রা কমলে বা বাড়লে রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ওপর সেটার প্রভাব পড়তে পারে। রোজার সময় বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর খাবার অথবা ভাজাপোড়া বেশি খেলে শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই এ সময় সুস্থ থেকে সব কটি রোজা রাখতে চাই সঠিক খাদ্যাভাস।

শুরুতেই বলা দরকার, ভাজাপোড়া না খাওয়ার বিষয়ে কঠোর থাকা উচিৎ। বাঙালি নাশতা হিসেবে ভাজাপোড়া খেতে পছন্দ করে। রোজার মাসে ইফতারি হিসেবে ভাজাপোড়ার কদর আরও বেড়ে যায়। কিন্তু অনেকেই জানেন না ইফতারে নিয়মিত ভাজাপোড়া খেলে, বিশেষ করে গরমের মধ্যে খেলে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে।
 
রোজা থাকার কারণে অনেক রোজাদারের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। ইফতারি হিসেবে তাই লম্বা সময় পরে ভাজাপোড়া খেলে তা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। ভাজাপোড়া–জাতীয় খাবার হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের অন্যতম কারণ।

অনেক ভাজাপোড়া খাবারে অতিরিক্ত চিনি ও লবণ মেশানো হয়, ফলে রক্তের চিনির মাত্রা ও রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। ভাজাপোড়াগুলোকে আকর্ষণীয় করার জন্য যে কেমিক্যাল বা রং মেশানো হয়, সেগুলো অতিরিক্ত গ্রহণে ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ডুবো তেলে ভাজা খাবার উচ্চ ক্যালরির, তাই স্যাচুরেটেড ও ট্রান্সফ্যাটের কারণে হৃদ্‌রোগ, স্থূলতা, টাইপ–২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে। অনেকের ক্ষেত্রেই ওজন বেড়ে শারীরিক নানা সমস্যা তৈরি করে। এসব খাবারে অতিরিক্ত তেল শুষে নেওয়ার কারণে বুকজ্বালা, হজমের সমস্যা দেখা দেয়। 

প্রতিদিনের ইফতারের খাবার হওয়া উচিৎ সহজপাচ্য ও কম তেল–মসলাযুক্ত। কারণ, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে গুরুপাক ও ভারী খাবার খেলে হজমের ব্যঘাত ঘটতে পারে, তৈরি হতে পারে শারীরিক জটিলতা। সে জন্য একটি খেজুর মুখে দিয়ে ইফতার শুরু করতে পারেন।

এরপর অল্প অল্প করে বারবার বিশুদ্ধ খাবার পানি খেতে হবে। ডাবের পানি, লেবুপানি, মৌসুমি ফলের রস খেতে পারেন। এগুলোর সঙ্গে তোকমাদানা, চিয়া সিড, ইসবগুলের ভুসি, তিসি মিশিয়ে খেতে পারেন।

ভাজাভুজি বা ছোলাভুনার পরিবর্তে অঙ্কুরিত ছোলার সঙ্গে শসা, টমেটো, লেবু ও দুই–তিন কোষ কাঁচা রসুন কুচি করে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। দুই–তিন রকম ডালের সঙ্গে মুরগির মাংস মিশিয়ে কম মসলা দিয়ে হালিম তৈরি করে খেতে পারেন।

টক দই দিয়ে লাল চিড়া, ওটস, বার্লিও খেতে পারেন। সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন ব্লেন্ড করা কোনো মৌসুমি ফল। বিভিন্ন মৌসুমি সবজি, মুরগির মাংস মিশিয়ে স্যুপ বানিয়েও খেতে পারেন। দুধের সঙ্গে সাবুদানা, সুজি দিয়ে ফালুদা বানিয়ে বা দুধ–ডিমের পুডিংও তৈরি করে খেতে পারেন। 

পবিত্র মাহে রমজানে অনেকেই রাতে না খেয়ে সরাসরি সাহ্‌রিতে খাবার খান, এই অভ্যাস ঠিক নয়। অন্যান্য সময়ের সকালের নাশতার পরিমাণ খাদ্য রাতে খেতে হবে। এই সময়ে সহজেই হজম হয়, এমন খাবার খান।

যেমন লাল আটার রুটি অথবা ভাত, ডাল, সবজি, শাক, মাছ বা মাংস অথবা ডিম ইত্যাদি। সবজি ও চিকেন মিক্স স্যুপ খেতে পারেন। দুধের সঙ্গে সামান্য ওটস, লাল চিড়া, বার্লি ও খেজুর ব্লেন্ড করে স্মুদি বানিয়ে খেলেও ভালো লাগবে। রাতের খাবারের পর টক দই খেতে পারলে ভালো হয়, যা ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *