যেভাবে মোটরসাইকেল চালালে তেল খরচ কম হয়, জেনে নিন উপকারে আসবে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব জ্বালানি তেলের বাজারে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে যাতায়াত খরচ কমানো সবার জন্যই চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন দীর্ঘ পথ মোটরসাইকেল চালিয়ে যাতায়াত করেন, তাদের আয়ের একটি বড় অংশ চলে যায় জ্বালানি তেলের পেছনে। তবে কিছু সহজ কৌশল এবং বাইকের সঠিক যত্ন নিলে জ্বালানি খরচ অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। যেভাবে মোটরসাইকেল চালালে আপনার বাইক কম তেল ‘খাবে’, তার একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা নিচে দেওয়া হলো-

১. থ্রটল বা এক্সিলারেটরের সঠিক ব্যবহার

বাইকের তেল খরচ কমানোর প্রধান শর্ত হলো স্মুথ ড্রাইভ। হুট করে গতি বাড়ানো বা বারবার কড়া ব্রেক করা থেকে বিরত থাকুন। ধীরগতিতে স্টার্ট দিয়ে আস্তে আস্তে স্পিড বাড়ালে ইঞ্জিনের ওপর চাপ কম পড়ে এবং মাইলেজ বৃদ্ধি পায়।

২. সঠিক গিয়ার ও গতির সমন্বয়

ইঞ্জিনের ক্ষমতা অনুযায়ী সঠিক গিয়ার ব্যবহার করা জরুরি। কম গিয়ারে বেশি স্পিডে বাইক চালালে তেল বেশি খরচ হয়। সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে এবং সর্বোচ্চ গিয়ারে বাইক চালালে সবচেয়ে ভালো মাইলেজ পাওয়া যায়।

৩. টায়ারের সঠিক প্রেসার বজায় রাখা

টায়ারের হাওয়া কম থাকলে ইঞ্জিনের ওপর বেশি লোড পড়ে, ফলে জ্বালানি খরচ বাড়ে। সপ্তাহে অন্তত দুইবার টায়ার প্রেসার চেক করুন। সঠিক হাওয়া থাকলে বাইক যেমন স্মুথ চলবে, তেমনি তেলের সাশ্রয় হবে।

৪. ট্রাফিক সিগন্যালে ইঞ্জিন বন্ধ রাখা

যদি ট্রাফিক সিগন্যালে ৩০ সেকেন্ডের বেশি অপেক্ষা করতে হয়, তবে ইঞ্জিন বন্ধ করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। দীর্ঘক্ষণ নিউট্রাল মোডে ইঞ্জিন চালু রাখলে অহেতুক অনেকটা তেল নষ্ট হয়।

৫. নিয়মিত সার্ভিসিং ও এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার

একটি অপরিষ্কার এয়ার ফিল্টার ইঞ্জিনে বাতাসের প্রবাহ কমিয়ে দেয়, যা দহন প্রক্রিয়া ব্যাহত করে এবং অতিরিক্ত তেল টানে। তাই নিয়মিত সার্ভিসিং করানো এবং স্পার্ক প্লাগ ও এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি।

৬. চেইন লুব্রিকেশন ও অপ্রয়োজনীয় ওজন কমানো

বাইকের চেইন শুকনো থাকলে ইঞ্জিনের শক্তি বেশি খরচ হয়। তাই নিয়মিত চেইন লুব করুন। এছাড়া বাইকে অপ্রয়োজনীয় ওজন বা ভারী মালামাল বহন করা থেকেও বিরত থাকুন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *