হঠাৎ পায়ের পে’শিতে টান লাগলে কী করবেন? জেনে নিন

পায়ের মাংসপেশিতে হঠাৎ টান  (Muscle cramp) লাগা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা, বিশেষ করে রাতে ঘুমের সময় বা ব্যায়ামের সময় এটা বেশি হয়ে থাকে। তীব্র ব্যথায় হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়। কিছুতেই পা আর সোজা বা ভাঁজ করা যায় না। আবার কখনো কখনো একটানা পা ভাঁজ করে রেখে হঠাৎ সোজা করতে গেলেও পায়ে টান লাগে।

সাধারণত পায়ের পেছনের মাংসপেশি আর পায়ের পাতায় এই টান ধরে থাকে। এর কারণ এই মাংসপেশির হঠাৎ শক্ত হয়ে যাওয়া। মাঝেমধ্যে ব্যথা ঊরুতেও উঠে আসে। ব্যথার তীব্রতা কারও ক্ষেত্রে কয়েক সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হয়, আবার কখনো কয়েক মিনিট থেকে শুরু করে সারা রাত ভোগাতে পারে।

যেকোনো বয়সে এই সমস্য যে কারো হতে পারে। নানা কারণে পায়ের পেশিতে টান লাগে। যেমন—

* অতিরিক্ত ব্যায়াম ও পরিশ্রম করলে কিংবা পায়ের পেশিতে বেশি চাপ পড়লে।

* টানা বসে বা দাঁড়িয়ে কাজ করলে।

* পানিশূন্যতা।

* গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে শেষ ৩ মাসে।

* কিছু ভিটামিন যেমন- শরীরে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হলে।

* এ ছাড়া পায়ে রক্ত চলাচল ব্যাহত হলে, অতিরিক্ত মাদকাসক্তি, বাত, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, কিডনি, হার্টের সমস্যার জন্যও এমন হতে পারে।

যা করা উচিত
পায়ে টান পড়লে আস্তে আস্তে পেশিকে রিলাক্স করতে হবে। পেশি প্রসারিত হলে ব্যথাও কমবে।
পায়ের পেছনের পেশিতে ব্যথা হলে পা সোজা করে হাত দিয়ে পায়ের আঙুলগুলো নিজের দিকে টানতে হবে, সঙ্গে মাংসপেশিতে হালকা মালিশ বা ম্যাসেজ করা যেতে পারে।

পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে পা উঁচু করে রাখতে পারেন।

হট ওয়াটার ব্যাগ দিয়ে কিছুক্ষণ গরম সেক দিতে পারেন আবার পেশি ফুলে গেলে আইসব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে।

যদি পায়ের নিচের অংশ (ক্যাফ মাসল) টান খায় তাহলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দেয়ালের দিকে হেলান দিয়ে এক পা পেছনে রাখুন।

হাঁটু সোজা রাখুন ও গোড়ালি মাটিতে রেখে আস্তে আস্তে সামনের দিকে ঝুঁকুন যতক্ষণ না টান ধরা জায়গায় টান পড়ে।

১৫–৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর ধীরে ধীরে ছাড়ুন।

পেশিতে হালকা ম্যাসাজ করুন

আঙুল দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে ম্যাসাজ করলে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং পেশি দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

টান ধরা পেশিতে গরম সেঁক দিলে পেশি রিল্যাক্স করে।

চাইলে গরম পানিতে ১৫–২০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখতে পারেন।

কখনো কখনো টান ধরা জায়গায় সামান্য ফোলা বা ব্যথা থাকলে বরফের সেঁক উপকারী হতে পারে।

হালকা ব্যথা কমে এলে পা উঁচু করে বিশ্রাম নিন যেন রক্ত চলাচল ঠিক থাকে।

প্রতিরোধের উপায়

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন

বিশেষ করে ঘুমানোর আগে পায়ের মাংসের স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করতে হবে।

শরীরে পানিশূন্যতা দূর করতে দিনে অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করতে হবে, সঙ্গে ফলের রস, ডাবের পানিও খেতে পারেন।

পর্যাপ্ত ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও পটাসিয়ামযুক্ত খাবার খান (যেমন: কলা, দুধ, ডাল, শাকসবজি)

ধূমপান, মদ্যপান করা থেকে বিরত থাকুন।

সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ৩০ মিনিট করে হাঁটার অভ্যাস করুন।

দীর্ঘ সময় একটানা বসে কাজ না করে এক ঘণ্টা পরপর অবস্থান পরিবর্তন বা হাঁটাচলা করতে হবে।

তবে সমস্যাটা যদি প্রায়ই হয় কিংবা টান লেগে পেশি ফুলে যায় বা পায়ের চামড়ার রং পরিবর্তন হয়, পা ঝিন ঝিন বা অবশ হয়ে আসে, শরীরের অন্যান্য জায়গায়ও ব্যথা হয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।