হঠাৎ এভাবে বিচ্ছেদে ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন মেসি

লিওনেল মেসি চেয়েছিলেন সম্পর্কটা টিকে থাকুক। চেয়েছিল বার্সেলোনাও। কিন্তু আগের বোর্ডের অধীনে বার্সেলোনার আর্থিক অবস্থার এমনই দৈন্যদশা যে, মেসির চুক্তি নবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। বার্সা কাল আনুষ্ঠানিকভাবেই সেটি জানিয়ে দিয়েছে।

বিশ্ব ফুটবলকে চমকে দেওয়া এই খবরে ফুটবল সমর্থকমাত্রই স্তম্ভিত হয়ে গেছেন। বার্সা সমর্থকেরা হতাশা, আফসোস জানাচ্ছেন অন্যরাও। এর মধ্যে আলোচনা চলছে মেসির সম্ভাব্য গন্তব্য নিয়েও। কিন্তু এতকিছুর মধ্যে মেসি কী করছেন? কেমন আছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড? তাঁর অনুভূতি কী?

সেটি জানাচ্ছে বার্সেলোনাভিত্তিক স্প্যানিশ দৈনিক স্পোর্ত। তাদের প্রতিবেদন, মেসি অনেক কষ্ট পেয়েছেন খবরটাতে। এখনই অবশ্য জনসম্মুখে কিছু বলবেন না ৩৪ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। বার্সা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা অবশ্য স্থানীয় সময় আজ সকাল ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন, সেখানে লাপোর্তা এ নিয়েই কথা বলবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

মেসির সঙ্গে বার্সার আগের চুক্তি শেষ হয়ে গেছে ৩০ জুন, এরপর থেকেই কাগজে কলমে মেসি আর বার্সার খেলোয়াড় ছিলেন না। কিন্তু চুক্তি নবায়ন হচ্ছে, এ নিয়ে সংশয়ের কথাও এতদিন শোনা যায়নি। স্পোর্ত লিখেছে, মেসি ভাবেনওনি যে বার্সার সঙ্গে তাঁর চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনায় হঠাৎ এমন বেদনার সমাপ্তি হবে।

গত মাসেই খবর এসেছিল, বার্সা আর মেসির চুক্তি নবায়ন নিয়ে সমঝোতা হয়ে গেছে, পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করবেন মেসি। জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউর অধীন আগের বোর্ডের অধীনে আর্থিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়া বার্সাকে সাহায্য করতে বেতন অর্ধেক কমিয়েও নেবেন বার্সা অধিনায়ক, এমনটাই শোনা গিয়েছিল। কিন্তু লিগের বেতনের সীমার মধ্যে থাকা নিয়ে জটিলতা আছে বলে তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির ঘোষণা দেয়নি বার্সা।

সেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা গতকাল আসার কথা ছিল। কোপা আমেরিকার পর ছুটি কাটিয়ে গত পরশু বার্সেলোনা শহরে ফিরেছিলেন মেসি। শোনা যাচ্ছিল, চুক্তি সই করেই ক্লাবের অনুশীলনে যোগ দেবেন মেসি। আগামী ৮ আগস্ট হোয়ান গাম্পার ট্রফিতে জুভেন্টাসের বিপক্ষে খেলবেন বলেও শোনা গিয়েছিল। কিন্তু হলো উল্টো! চুক্তি সই হলো না, বরং কাল বার্সেলোনা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, লিগের চাপিয়ে দেওয়া বেতনের সীমার কারণে মেসির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।

মেসির কাছের মানুষকে সূত্র হিসেবে জানিয়ে স্পোর্ত লিখেছে, বার্সাকে এমন বিবৃতি দিতে হবে, এটা কল্পনাও করেননি মেসি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তো অবশ্য পরে এসেছে। গতকাল দুপুরে মেসির বাবা ও মুখপাত্র হোর্হে মেসি বার্সার কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানেই বার্সার পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, চুক্তি নবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। বাবার কাছ থেকে খবরটা শোনার পরই কষ্ট পেয়েছেন মেসি। এতদিন ধরে চুক্তির আলোচনা চলার পর এভাবে হঠাৎ সেটি শেষ হয়ে যাওয়াতে মেসি বিস্মিত হয়েছেন বলেও লিখেছে স্পোর্ত।

তবে এই মুহূর্তে তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবেন না, সংবাদমাধ্যমের সামনেও আসবেন না বলেও জানাচ্ছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম।

বিখ্যাত ইতালিয়ান সাংবাদিক ফাব্রিজিও রোমানো পুরো ঘটনাক্রমটা ব্যাখ্যা করেছেন কয়েক বাক্যের একটা টুইটে, ‘মেসি বার্সেলোনায় এসেছিলেন চুক্তি সই করার জন্য। (বার্সা ও মেসি দুই পক্ষের) কোনো মতের অমিল ছিল না, পুরোপুরি একমত ছিল দুই পক্ষ, চুক্তি নবায়নের সময়সূচিও ঠিক করা ছিল। বার্সা লিওকে জানাল, লা লিগার নিয়মের কারণে তাদের হাত বাঁধা, তারা চুক্তি নবায়ন করতে পারছে না। অন্য খেলোয়াড়দের নিয়ে ঝামেলা ছিল। (বার্সেলোনা সভাপতি) লাপোর্তার সততা মেসির ভালো লেগেছে। পিএসজি এরই মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ শুরু করেছে।’

এখানে অন্য খেলোয়াড়দের ঝামেলা বলতে রোমানো সম্ভবত বুঝিয়েছেন, দলের প্রয়োজন নয় কিন্তু উঁচু বেতনে বার্সায় আছেন এমন খেলোয়াড়দের বিক্রি করা নিয়ে বার্সেলোনা দারুণ ঝামেলায় পড়েছে। ফিলিপে কুতিনিও, সামুয়েল উমতিতি, ক্লেমঁ লংলে, মিরালেম পিয়ানিচের মতো খেলোয়াড়েরা বার্সায় বাড়তি বেতনে আছেন, কিন্তু দলের উপকারে সেভাবে আসছেন না।

লিগের বেঁধে দেওয়া বেতনের সীমার মধ্যে থেকে মেসির চুক্তি নবায়নের জন্য এঁদের বিক্রি করতে হতো বার্সাকে। কিন্তু অন্য কোথাও এত বেতন পাবেন না দেখে এই খেলোয়াড়দের কেউ এত বেতন ছেড়ে বার্সা থেকে বেরোতে রাজি নন। আবার কুতিনিও বার্সা ছাড়তে চাইলেও তাঁকে এত বেতন দিয়ে কিনতে পারছে না কোনো ক্লাব। আর এই খেলোয়াড়দের বিক্রি কিংবা ধারে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না বলে মেসির চুক্তি নবায়ন সম্ভব হলো না বার্সার পক্ষে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *