স্বামীর প্রাণ বাঁচাতে স্ত্রীর কিডনি দান

এক বছর আগে কিডনি রোগে আক্রান্ত হন জুয়েল রানা। বর্তমানে তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে পড়েছে। বলতে গেলে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। তাই স্বামীকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্ত্রী শাহানাজ পারভীন। কিন্তু টাকার অভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

 

২৫ বছর বয়সী জুয়েলের বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তাড়াশ সদর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মো. মন্টু খন্দকারের ছেলে। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজের ইংরেজি বিভাগের (২০১৪-২০১৫) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন জুয়েল। পাশাপাশি ঢাকার কেসি হাসপাতালে সপ্তাহে দুদিন কিডনি ডায়ালাইসিস করা হচ্ছে।

 

 

 

জুয়েলের বাবা মন্টু খন্দকার বলেন, চিকিৎসা করে ছেলেকে সুস্থ করতে পারিনি। এরই মধ্যে চিকিৎসার ব্যয় বহন করে সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়েছি। জরুরি ভিত্তিতে কিডনি প্রতিস্থাপনসহ উন্নত চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। অন্যথায় ছেলেকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।

 

জুয়েলের স্ত্রী শাহানাজ পারভীন বলেন, ডাক্তারি পরীক্ষায় দুজনের কিডনি ম্যাচিং হয়েছে। ফলে নিজের একটি কিডনি স্বামীকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। কিডনি প্রতিস্থাপন ও সুচিকিৎসার জন্য ১৩ লাখ টাকার মতো ব্যয় হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু আমাদের কাছে এত টাকা নেই। তাই হৃদয়বান ও দানশীল ব্যক্তিদের আর্থিক সাহায্য প্রয়োজন। জুয়েল ও শাহানাজ দম্পতির ঘরে দুই বছরের ফুটফুটে কন্যা সন্তান রয়েছে।

 

তাড়াশ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বাবুল শেখ বলেন, বিষয়টি অতীব জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিজেও জুয়েলের হয়ে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *