চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, সেপ্টেম্বরে স্কুল-কলেজ খুলতে চায় সরকার

বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন চালু করা, এমনকি প্রতি আসনে যাত্রী তোলার অনুমতি দেয়া হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

 

আগামী বুধবার থেকে অফিস-আদালত, যানবাহন, শপিংমল, দোকানপাট খুলে দেয়ার বিষয়ে রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, তাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

 

অবশ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো আছে।

 

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো করোনা শনাক্ত হয়। উদ্বেগ থাকলেও প্রথম কয়েক মাসে ভাইরাসটি সেভাবে ছড়ায়নি। তবে ১৭ মার্চ বন্ধ করা হয় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

 

প্রতিবারই ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে ছুটির মেয়াদ। আর গত মে মাসে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলার তারিখও জানানো হয়। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেঙ্গল ভ্যারিয়েন্টের কারণে শাটডাউন দেয়ায় আর খোলা হয়নি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

 

তবে জানা গেছে, আগামী মাসে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে সরকারের শিক্ষাসংশ্নিষ্ট দুই মন্ত্রণালয়ে নানা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রতি দু’দিন পরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন করতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সর্বস্তরের শিক্ষকদের টিকাদান কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার কাজও চলছে জোরেশোরে।

 

স্কুলগামী শিশুদের আপাতত না হলেও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দেনদরবার চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর সারাদেশের চার লাখ ৪০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের টিকা দেওয়ার কাজটি আগামী ১১ আগস্টের মধ্যে শেষ করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

এর আগে আরও দুইবার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েও করোনার সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বগামী হওয়ায় সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যায়নি। সে কারণে এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে আগাম কোনো ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে না।

 

সূত্রমতে, সব ধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একযোগে, একসঙ্গে খুলে দেওয়া হবে না। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়া হবে এবং আটকে থাকা স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের চূড়ান্ত পরীক্ষাগুলো আগে নেওয়া হবে। এরপর ধাপে ধাপে কলেজ ও বিদ্যালয় খুলে দেওয়া হবে। মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, করোনা সংক্রমণ কমে এলে সেপ্টেম্বর থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা স্কুলগুলো খুলে দিতে চাই। সরাসরি ক্লাস শুরু করা খুব দরকার। জুম ও গুগলমিটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনেক দরিদ্র ও অতি দরিদ্র পরিবারের সন্তানরাও পড়ে। তাদের সবার কাছে এই পাঠদান পৌঁছানো যাচ্ছে না। এটিই বাস্তবতা।

 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তদারকিতে প্রাথমিক শিক্ষকরা বেশিরভাগই কভিড-১৯-এর টিকা নিয়েছেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *