এক কোটি মানুষকে চাকরি দেবে সরকার

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে সরকার। যদিও দেশে একসাথে অনেক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা সম্ভব নয়, তবে এর মধ্যে প্রতিষ্ঠিত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে চালু করে অতিদ্রুত কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

তিনি বলছেন, বর্তমানে সরকার চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শিল্পাঞ্চল নিয়ে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও সরকারের তালিকায় রয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল।

অভিযোগের সুরে তিনি জানান, তিনটি বড় প্রতিষ্ঠানকে (সিকদার, বসুন্ধরা এবং গ্যাসমেন) বঙ্গবন্ধু শিল্পাঞ্চলে ৫শ’ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাদের চাহিদানুসারে বিদ্যুৎ, পানি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের যা যা করা দরকার সরকার করেছে। কিন্তু তাদের কাজের অগ্রগতি নেই। বরাদ্দকৃত জমি অব্যবহৃত ফেলে রাখলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী চেয়ারম্যান।

বঙ্গবন্ধু শিল্পাঞ্চলে এখন পর্যন্ত ১১০টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জমির লিজ-সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এ বছর উৎপাদনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রতিটি অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু করার ইচ্ছা রয়েছে সরকারের। বর্তমানে অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ নতুন করে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা না করে পুরনো অঞ্চলগুলোকে সচল করতে চাচ্ছে।

যেখানে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) কেবলমাত্র বিদেশি বিনোয়গ নিয়ে কাজ করে সেখানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ দেশি-বিদেশি উভয় বিনিয়োগ নিয়ে কাজ করে। এতে করে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো বহুমুখী বিনিয়োগের মাধ্যমে সমৃদ্ধ হতে পারবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে দেশি-বিদেশি যৌথ উদ্যোগে অনেক বিনিয়োগ হয়েছে। তবে নতুন করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জায়গা দেওয়ার মতো অবস্থা এখন সরকারের নেই। তারপরও সৌদি আরব যদি সরকারি পর্যায়ে বিনিয়োগ করতে চায়, সরকার তাদের জায়গা দিতে প্রস্তুত আছে।

তবে বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে পানির সমস্যা প্রকট হয়ে ধরা দিয়েছে। বর্তমানে পানির চাহিদা মেটানোর জন্য ৩৫টা গভীর নলকূপ বসানো হবে। মাতামুহুরী নদী থেকে পানি আনা হবে। মেঘনা নদী থেকেও ১২০ কিলোমিটার পাইপ লাইন বসিয়ে পানি আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এছাড়া নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমেও প্রতিষ্ঠানগুলোকে পানির চাহিদা মেটানোর আহ্বান জানিয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ইচ্ছা নেই। এটি পরিবেশের উপরে বিরূপ প্রভাব ফেলে বলে ভূ-উপরিভাগের পানির দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের থেকে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নতুন নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, ‘বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো ছোট পরিসরে গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর পরিধি ব্যাপক।’ এছাড়াও ঋণ জটিলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বেসরকারি খাতে যে টাকা খরচ হচ্ছে, তা তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে হচ্ছে। আর আমরা সরকারের কাছ থেকে ঋণ নিই। বহুজাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকেও ঋণ নিই। সরকারের হাতে টাকা নেওয়ার একক সোর্স নেই। যে কারণে ঋণ প্রক্রিয়ায় সময় লাগে। তা ছাড়া সরকারি কাজের পরিধি বিশাল। কিন্তু বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে এই সমস্যা নেই। সে কারণেই পার্থক্যটা হচ্ছে।’

অন্যদিকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের পর্যটনখাত নিয়েও পরিকল্পনা আছে বলে জানা যায়। কক্সবাজারের সাবরাং, নাফ ও সোনাদিয়া পর্যটন অঞ্চল নিয়ে কাজ করছে সরকার। ইতোমধ্যে জমি বরাদ্দের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা যায়। খুব শিগগিরই এই তিনটি অঞ্চল আকর্ষণীয় পর্যটনখাতের অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *